রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। যুদ্ধের অবসান হলে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সেক্ষেত্রে বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এ আশাবাদ ভেনিজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল পরিবহন ঘিরে সাম্প্রতিক অনিশ্চয়তাকে ছাপিয়ে গেছে। এর প্রভাবে গতকাল দাম কমেছে জ্বালানি পণ্যটির। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ব্যারেলে ১২ সেন্ট বা দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৫৯ ডলার ৭০ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে ৫৫ ডলার ৯৯ সেন্টে। গত সপ্তাহের তুলনায় ব্রেন্টের দাম কমেছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। ডব্লিউটিআইয়ের কমেছে ২ দশমিক ৫ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। সপ্তাহান্তে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলে জ্বালানি তেলের বাজারে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কমতে পারে।
অন্যদিকে ভেনিজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল পরিবহনে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত অবরোধ কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বৈশ্বিক জ্বালানি তেল সরবরাহে ভেনিজুয়েলার হিস্যা প্রায় ১ শতাংশ। গত সপ্তাহে ভেনিজুয়েলার একটি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। এটিকে নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। তবে বিশ্লেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার জ্বালানি খাতে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তার প্রভাব ভেনিজুয়েলাসংক্রান্ত অবরোধের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।
আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, ‘ভেনিজুয়েলা ইস্যুতে অবরোধ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইউক্রেন শান্তি চুক্তির সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। এ দুই কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে সরবরাহ ঘিরে উদ্বেগ কমেছে। এতে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির অতিরিক্ত মূল্যচাপও কিছুটা কমেছে।’
এদিকে ভেনিজুয়েলা বৃহস্পতিবার নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকা দুটি বড় জ্বালানি তেলবাহী জাহাজকে চীনের উদ্দেশে যাত্রার অনুমতি দিয়েছে। দেশটির রফতানি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে ভেনিজুয়েলা থেকে চীনে জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।
ব্যাংক অব আমেরিকার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দামে সাম্প্রতিক পতনের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল উত্তোলন কিছুটা কমতে পারে। এতে দামে বড় ধরনের পতন ঠেকানো সম্ভব হবে।
টনি সাইকামোর জানান, জ্বালানি তেলের দাম যদি বর্তমান স্তর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়ে, তাহলে বাজারে আবার নিম্নমুখী চাপ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে ব্যারেলপ্রতি দাম ৫০ ডলারের দিকে নেমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।